Homeবিজ্ঞানচন্দ্রগ্রহন এবং সূর্যগ্রহণ কিভাবে ঘটে

চন্দ্রগ্রহন এবং সূর্যগ্রহণ কিভাবে ঘটে

চন্দ্রগ্রহন এবং সূর্যগ্রহণ কিভাবে ঘটে

চাঁদ হাজার হাজার বছর ধরে মানব সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশচিহ্নিত করা ক্যালেন্ডার তৈরি করা। এমনকি শিল্প-সাহিত্য  দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছে যেমন ক্ষুধার তীব্রতা বুঝাতে গিয়ে সুকান্ত বলেছিলেন ক্ষুধার রাজ্যেপৃথিবী গদ্যময় পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি মতো। বাংলাদেশের বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবের তারিখ নির্ধারণ হয় যাদের মাধ্যমে মানব ইতিহাসের শুরু থেকেই মানুষ নানাভাবে চাঁদ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। এমনকি  এখনোমানুষ চন্দ্রগ্রহণ সূর্যগ্রহণ এইগুলো নিয়ে বিভিন্ন বিশ্বাস লালন করে। চাঁদের যাবতীয় বিষয়গুলো সম্পর্কে বলা হবে, আমি আমরা প্রায় এক মাসের পরিক্রমায় চাঁদকে ক্রমাগত বড় হতে দেখি আবার ছোট হতে দেখেছি। তবে এখানে একটি বিষয় আমরা কিন্তু সব সময় চাঁদের একটিসাইট দেখে চাঁদের অপর সাইট কখনোই পৃথিবী থেকে দৃশ্যমান হয়না। এখন প্রশ্ন হচ্ছে কেন আমরা পৃথিবী থেকে শুধুমাত্র চাঁদের একটি সাইট দেখি চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ কালে নিজ অক্ষে একটিপূর্ণ গ্রহণ সম্পন্ন করে। যার ফলে আমরা যাদের শুধুমাত্র একটি সাইট দেখে। এই বিষয়টি একটু বিস্তারিত বলা যাক এখানে চাঁদের দুইটি সাইট দুটি আলাদা রং এর মাধ্যমে দেখানো হয়েছে। গাছের সাইটটি হচ্ছেন নিয়ার সাইট এবং দূরের সাইটটি হচ্ছে ফার্সাইটেদ। যদি তার নিজ অক্ষে স্থির থেকে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে তবে কি ঘটে তা দেখা যাক । এখানে লক্ষ্য করুন চাঁদ যদি তার নিজ অক্ষে স্থির থেকে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে । তবে কিন্তু পৃথিবী থেকে সময়ের ব্যবধানে চাঁদের দুইটি দৃশ্যমান হবে। এবার মনে করিয়ে চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ কালের নিজ অক্ষে স্থির না থেকে একাধিক বার করে। তবে ও কিন্তু পৃথিবী থেকে সময়ের ব্যবধানে চাঁদের দুটি দৃশ্যমান হবে। অর্থাৎ এই দুই ক্ষেত্রেই চাঁদের সাইট পৃথিবী থেকে দৃশ্যমান হবে দেখা যাবে। কিন্তু যদি পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ কালে নিজ অক্ষে শুধুমাত্র একবার করে। তবেই পৃথিবী থেকে চাঁদের শুধুমাত্র একটিসাইট দেখা যাবে। যদিও এই অ্যানিমেশনে মাধ্যমে বিষয়টি খুব ভালোভাবে বোঝা যায় না। কিন্তু এখানে একটি অ্যারো চিহ্ন থাকলে বিষয়টি ক্লিয়ার হয়ে যাবে। যাদের এই অবস্থানে অ্যারো চিহ্ন টি উত্তরদিকে এখন এই অবস্থানে এসে আরো চিহ্নটি পশ্চিম দিক নির্দেশ করছে মনেরও চিহ্নটি 90 ডিগ্রী করেছে। একইভাবে এখানে এসে অ্যারোচিহ্ন দক্ষিণ দিক নির্দেশ করছে অর্থাৎ অ্যারো চিহ্ন টি 180° করেছে।  আবার এখানে এসে আরো চিহ্নটি পূর্ব দিক নির্দেশ করছে অর্থাৎ অ্যারো চিহ্ন টি 270° করেছে। এভাবে প্রাথমিক অবস্থানে আসলে এরা আবার উত্তর দিক নির্দেশ করে। অর্থাৎ অ্যারো চিহ্নটি 360° ঘরে এখন অ্যারো চিহ্ন টি 360° করেছে এর মানেহচ্ছে চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে নিজ অক্ষে একটি পূর্ণ সম্পন্ন করেছে। অর্থাৎ একবার করেছে এই ধরনের আবর্তনকে বলেন সিঙ্ক্রোনাইজ প্রটেকশন এবং এজন্যই আমরা যাদের শুধুমাত্র একটি সাইট দেখে থাকি। এখন এক মাসের ব্যবধানে চাঁদকে আমরা কেমন দেখি তা বলা যাক। আমরা সাধারণভাবে সূর্য পৃথিবী এবং চাঁদ কে এই ভাবে চিন্তা করি। কিন্তু এমন দৃশ্যায়নের ক্ষেত্রে ছোট সময় আমার মনে একটি প্রশ্ন তৈরি হতো। এবং প্রশ্নটি হচ্ছে এমন ক্ষেত্রে চাঁদ পৃথিবীকেএকবার প্রদক্ষিণ করার সময় একটি চন্দ্রগ্রহণ এবং একটি সূর্যগ্রহণ হবারকথা।   অর্থাৎ প্রতি মাসের এই অবস্থানে চন্দ্রগ্রহণ এবং এই অবস্থানের সূর্যগ্রহণ হবার কথা। কিন্তু বাস্তবে তা হয়না সেই সাথে এমনদৃশ্যের ক্ষেত্রে রাতের বেলায় চাঁদ দেখতে পাবার কথা নয়। কারণ রাতের বেলায় চাঁদ পৃথিবীর ছায়ার মধ্যে অবস্থান করে। আর আমরা জানি চাঁদের নিজস্ব কোন আলো নেই। সুতরাং রাতের বেলায় চাঁদ দেখতে পাবার কথা নয়। আমার মত আপনাদের অনেকের মনেই হয়তো। এই প্রশ্নগুলো কোন এক সময়ে এসেছিল আসলে এমন দৃশ্যায়নের ক্ষেত্রে সূর্য পৃথিবী এবং চাঁদকে উপর থেকে দেখার সাথে তুলনা করা যেতে পারে। কিন্তু আমরা যদি সূর্য পৃথিবী  চাঁদকে সাইট থেকে দেখি। তবে সকল প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে সূর্য পৃথিবীর চাঁদ। কিন্তু সরল রেখায় অবস্থান করে না। বরং সূর্য এবং পৃথিবীরপ্লেনের সাথে প্রায় 5 ডিগ্রি হেলে থাকে। চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে এই হেলে থাকে অর বিট প্লেনের কারণেই। সূর্যের আলো চাঁদে প্রতিফলিত হয়ে পৃথিবীতে আসতে পারে। ফলে চাঁদকে আলোকিত লেখায় মনে করুন আপনি পৃথিবীর এই স্থানে অবস্থান করছেন এবং চাঁদ সূর্যের সামনে রয়েছে। তাহলে সূর্যের আলোতে চাঁদের পার্সেন্ট আলোকিত হলেও সেই আলো প্রতিফলিত হয়ে পৃথিবীতে আসবে না। এর একদিন পর পৃথিবীর একটি পূর্ণ গুণসম্পন্ন করবে। কিন্তু চাঁদ তার আর বিটের মাত্র 30 ভাগের এক ভাগ দূরত্ব অতিক্রম করবে এক্ষেত্রে চাঁদের অবস্থান এমন হবে। যে চাঁদের নিয়ার সাইটের সামান্য অংশ সূর্যের আলোতে আলোকিতহবে। এবং আপনি পৃথিবীর একই অবস্থান থেকে আগের দিনের তুলনায় এবার চাঁদের সামান্য অংশ দেখতে পাবেন। এইভাবে প্রায় 15 দিন আপনি চাঁদকে ক্রমাগত বড় হতে দেখবেন এবং পরবর্তী প্রায় 15দিন চাঁদকে ছোট হতে দেখবেন। অর্থাৎ প্রায় 30 দিনের ব্যবধানে চাঁদ পূর্ণ হয়। আবার বাঁকা হয় যাকে বলা হয় চন্দ্রমাস। এই চন্দ্রমাস সম্পর্কে আরও কিছু কথা বলা দরকার মনে করুন। চাঁদ এই স্থান থেকে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে আবার স্থান এসেছে। একে আমরা কি বলব?  স্বাভাবিকভাবেই একে আমরা এক চন্দ্র মাস বলব। কিন্তু না একে বলা হয় সিরিয়াল মার্চ কোন একটিস্থান থেকে যাত্রা শুরু করে আবার সেই অবস্থানে আসতে মোট 27 দশমিক তিন দিন সময় নেয় এবং এই সময়ে চাঁদ। এই পেজ থেকে যাত্রা শুরু করেছিল পুরোপুরি সেই পেজে আসতে পারে না। এখানে খেয়াল করুন, এখান থেকে যাত্রা শুরু করে আবার এখানে আসলেও চাঁদ কিন্তু পূর্ণ হয়নি। বরং কিছুটা স্থান-কাল রয়ে গেছে এর মানে দাঁড়াচ্ছে চাঁদ একটি পেজ থেকে যাত্রা শুরু করে। আবার সেই পেজে আস্তে চাঁদের অরবিট একটি পূর্ণঘূর্ণনের চেয়েও একটু বেশি’ করতে হয়। এবং এর জন্য সময় লাগে প্রায় সাড়ে 29 দিন এবং একেই আমরা বলে থাকি চন্দ্রমাস। কারণ পৃথিবী থেকে আমরা ফেস টু ফেস বিবেচনা করি এবং সেই হিসেব অনুযায়ী একটি পূর্ণ থেকে অন্য একটি ফুলমুন এর মধ্যবর্তী সময়ের ব্যবধান প্রায় সাড়ে 29 দিন।  যাই হোক এবার চন্দ্র গ্রহণ এবং সূর্য গ্রহণ সম্পর্কে বলা যাক। আরে উল্লেখ করেছি, সূর্য এবং পৃথিবীর প্লেনের সাথে চাঁদের অরবিট প্লেন প্রায় 5 ডিগ্রি হেলে থাকে। এখন এমন ক্ষেত্রে শুধুমাত্র এই দুইটি পয়েন্টে চাঁদ সূর্য এবং পৃথিবী একই সমতলে থাকে । একটি হচ্ছে অ্যাসেন্ডিং নোট এবং অন্যটি হচ্ছে ডিসেন্ডিং নোট এখনই এসেন্ডিং এন্ড ডিসেন্ডিং নোট । যদি সবসময় একই স্থানে থাকে তবে ছয়মাসের ব্যবধানে একবার সূর্য গ্রহণ এবং একবার চন্দ্রগ্রহণ হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে বছরে অনেক সময় দুইবার থেকে পাঁচবার পর্যন্ত চন্দ্র গ্রহণ করতে পারে যেমন সর্বশেষ হাজার 935 সালে পাঁচবার গ্রহণ ঘটেছিল। এখন প্রশ্ন হচ্ছে কেন মোটা ঘটে?  আসলে চাঁদের অরবিট প্লেননিজেও মুখ করে এবং প্রায় প্রতি 18 বছরে একটি পূর্ণভ্রমণ সম্পন্ন করে। ফলে এসেন্ডিং এন্ড ডিসেন্ডিং নোট ছয় মাসের আগে বা পরে সূর্য এবং পৃথিবীর সময় চলে আসতে পারে । এবং এমন ক্ষেত্রে যদি চাঁদ ওই নটি এসে পৌঁছায়।  তবে গ্রহণ সংঘটিত হবে যখন পৃথিবী এবং সূর্যের মধ্যে কোন একটি নোট চলে আসে এবং সেই সময়ে চাঁদ সেই নটি অবস্থানকরে তখন সূর্যগ্রহণ সংঘটিত হয় ।এমন ক্ষেত্রে সূর্যের আলো যাদেরকারণে ঢেকে যায় তবে এমন ক্ষেত্রে যে পৃথিবী একদমই অন্ধকারহয়ে যাবে তা কিন্তু নয় শুধুমাত্র যে স্থানে মূল ছায়াপড়বে সেই স্থান রাতের মতো অন্ধকার হয়ে যাবে যাকে বলাহয় আমরা এই আমরা চারপাশে হালকা ছায়া পড়বে একে বলাহয় প্যান আমরা শুধুমাত্র থেকে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যায় এরবাইরে যেসব স্থানে ছায়া পড়বে সেখান থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখাযাবে এখানে আরেকটি বিষয় রয়েছে সকল সূর্য গ্রহণের ক্ষেত্রে চেয়েসূর্য পুরোপুরি থেকে যাবে তা কিন্তু নয় কিছু ক্ষেত্রে যাদেরচারপাশে মতো সূর্যকে দেখা যাবে এমনটা ঘটে মূলত চাঁদের অরবৃত্তাকার না হবার ফলে চাঁদের অরবিট মূলত উপবৃত্তাকার যার ফলেরাতে যখন পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে থাকে এবং সেই অবস্থায়সূর্যগ্রহণ ঘটে তখন চাঁদকে পৃথিবী থেকে তুলনামূলক ছোট দেখায় যারফলে যাদের চারপাশে রিং এর মত সূর্যকে দেখা যাবে এবংএক্ষেত্রে পৃথিবীর যে সকল স্থানে পেন আমরা ছায়া পড়বে সেইঅবস্থান থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে যাইহোক এবার চন্দ্রগ্রহণ সম্পর্কেবলা যাক চাঁদ এবং সূর্যের মধ্যে পৃথিবী যখন একই সমতলেচলে আসে তখন সংঘটিত হয় চন্দ্রগ্রহণ পৃথিবীর কারণে সূর্যের বিপরীতদিকে সূর্যের আলোর দুই ধরনের ছায়া তৈরি হয় একটি হচ্ছেআমরা এবং অন্যটি হচ্ছে প্যান আমরা শ্যাডো এখন চাঁদ যদিপৃথিবীর আমব্রসে ঢুকে আংশিক অতিক্রম করে তখন আংশিক চন্দ্রগ্রহণ দেখাযায় কিন্তু চার যদি পৃথিবীর অ্যাম্বাসাডর মধ্যে পুরোপুরি প্রবেশ করেতবে সেখানে পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ সংঘটিত হয় এই ক্ষেত্রে কিন্তু একদমঅদৃশ্য হয়ে যায় না বরং 43 বর্ণ ধারণ করে এখনপ্রশ্ন হচ্ছে এন্ড্রয়েডদের যাওয়া মানে চাঁদে কোন আলো পৌঁছাবে নাসুতরাং চাঁদকে দেখতে বকার কথা নয় তবে কেন চাঁদকে রক্তিমদেখাবে এমনটা ঘটবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের কারণে অন্য সকল আলো বায়ুমণ্ডলেরশোষিত এবং প্রতিফলিত হলেও লাল বর্ণের আলোর বেঁকে গিয়ে তাদেরপড়বে অর্থাৎ পৃথিবীর এন্ড্রয়েডদের লাল বর্ণের আলোর উপস্থিতি থাকবে এবংএই জন্যই 43 দেখাবে এই সময়ে যদি চাঁদ থেকে পৃথিবীকে দেখা যায় তবে তা এমন দেখাবে মনে হবে পৃথিবীরচারপাশে লাল বর্ণের ঋণ রয়েছে আসলে চাঁদের গতিপথ বিভিন্ন স্থানেখুব সহজভাবে উপস্থাপন করলেও প্রকৃত অর্থে বিষয়গুলো এতটা সহজ নয়আজ থেকে যখনই চাঁদ দেখবেন আশাকরি চাঁদের গতিপথের জটিল বিষয়গুলোচোখে ভেসে উঠবে চাঁদের গতিপথের মতোই পৃথিবীর গতি পথ সহজনয় পৃথিবীর গতিপথে পৃথিবীর অবস্থান এর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের কারণে পৃথিবীতেঋতু পরিবর্তন দেখা যায় সেই সাথে দুই মেরুতে টানা ছয়মাস দিন এবং ছয় মাস রাত থাকে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here